সমাজের বর্ণ স্বরবর্ণ সাহিত্য পত্রিকায় আপনাকে স্বাগত ~ Welcome to Sworobarna Literary Magazine | এই বছরের নতুন নিবেদন -- সমাজের বর্ণ | অণুগল্পে সমাজের নানান রং এর মেলা | রবিবর্ণ | স্বরবর্ণ সাহিত্য পত্রিকা - ২০২১ 🙏 ধন্যবাদ ~ Thank You 🙏 মা দেবীকা মিস্ত্রী সঞ্জীবনী প্রথম যেদিন মিমিকে দেখেছিল, বাঁচিয়েছিল একটি বড়োসড়ো অ্যাক্সিডেন্ট হওয়ার হাত থেকে। কোলে তুলে নিয়েছিল ছোট্ট মিমিকে।সেদিন মিমিও সঞ্জীবনীর বুকে মাথা রেখে, বেঁহুশ হয়ে "মা" বলে ডেকেছিল। সঞ্জীবনীর মধ্যে জেগে উঠেছিল মা-এর একটি রূপ। সেই ঘটনার পর, বহুবার সঞ্জীবনী মিমির সাথে দেখা করার চেষ্টা করে। কিন্তু, তাকে মিমির কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। মিমিও অনেকবার সঞ্জীবনীর কাছে আসার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিল। ঠিকই তো, সঞ্জীবনীকে ছোট্ট মিমির কাছে কেন আসতে দেবে এই সুস্থ সমাজ। সে যে, নপুংসক, হিজড়া, ছক্কা। কারোর কারোর চোখে ...
উচ্চাসন
বৈদূর্য্য সরকার
স্বরবর্ণ সাহিত্য পত্রিকা
তাড়াহুড়ো করে যেতে গিয়ে জলের পাউচে পা পড়ে তিন্নির গতি কিছুটা বেসামাল হলেও বিপত্তি হল মিলটনের । বেমক্কা জল ছিটকে এসে তার প্যান্টের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ভিজিয়ে দিয়ে গেল । কিছু বলার আগেই অবশ্য তিন্নি ততক্ষণে দ্রুত সে জায়গা ছেড়ে যেমন এসেছিল তেমনভাবেই চলে গেছে । বইমেলার এই পেছন দিকটা নিরিবিলিতে দাঁড়িয়ে মিলটন এতক্ষণ বন্ধুদের সাথে দাঁড়িয়ে গুরুগম্ভীর বিষয়ে বিতর্ক করছিল । অল্পবয়সী ছেলেদের কাছে সিরিয়াসনেস মানে যা হয় আর কী, দেশ ও দশের কথা ভাবা ! মিলটনকে ‘No NRC’ লেখা একটা পেজ মার্কার দেওয়া থেকে তর্ক শুরু হয়েছে ।
আচমকা আসা জলের তোড়ে থমকে গেল ওরা । এই অদ্ভুত সমাপতনে সবাই যে খানিকটা অবাক হয়নি তা নয়, তবে যাবতীয় সিরিয়াসনেস ভুলে সবার মুখেই হাসি ফুটে উঠল । অবশ্যই মিলটন ছাড়া বাকীরা । ততক্ষণে রেগে সে সৌম্যকে বলতে শুরু করেছে, দেখেছিস তো তোর দলের এসব ফচকে মেয়েরা লোককে অপদস্থ ছাড়া কিছুই করতে শেখেনি । সৌম্য হাসি বজায় রেখে বলল, দল বলের কথা উঠছে কেন ! তোর তো ডিপার্টমেন্ট । যাদবপুরের ইতিহাস। মিলটন পাস করে এমফিল করছে । তবে জায়গাটাকে যেন সে আঁকড়ে ধরেছে – ফলে যে কোনও মাস্টার্সের স্টুডেন্টের থেকে তার অ্যাটেন্ডেন্স বেশি । মিলটন জানে তাদের মতো কিছু ছেলেমেয়েকে নিয়ে কানাঘুষো চলে ডিপার্টমেন্টে। মিলটনরা বোঝে, যাদবপুরে দেওয়ালে প্রগতিশীল কথাবার্তা লেখা থাকলেও আসলে কেউই সংরক্ষিত আসনের ছেলেদের ভাল চোখে দেখে না। তিন্নির মতো বড়লোকের মেয়েরা রাস্তায় গাড়ি করে যাওয়ার সময় জমা জল পথ চলতি লোকের গায়ে ছিটিয়ে দেয়, আর এখানে অসাবধানতার নাটক করে প্যান্ট ভিজিয়ে দিয়ে গেল । ওর মনে যখন এসব চলছিল, সৌম্য ওর মুখ চোখের ভাব দেখে খানিকটা শঙ্কিত হয়ে বলল- আরে সব ব্যাপার এতো পার্সোনালি নিচ্ছিস কেন ! তাতে মিলটন আরও রেগে বলতে লাগল, পার্সোনাল ছাড়া আর কী ! তোমরা বিরোধিতা করছ লোকের চোখে হিরো হওয়ার জন্যে... আর আমরা সমর্থন করছি নিজেদের ইতিহাসকে ভেবে ।
কথাটা তো ঠিক দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে ভাগ্য জোড়ে অধিকাংশ নমঃশূদ্র । কিন্তু ক’বছরের মধ্যেই তাদের নেতা প্রাণভয়ে কলকাতায় পালিয়ে এলেন । ততদিনে হিন্দুদের জমি বাড়ি কেড়ে তাদের মেরে, ঘর থেকে মেয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে এলাকার দাদারা । অনেকের ধর্ম পাল্টেও দেওয়া হয়েছে জোর করে । এই সময় ভারতে এনে তাদের হিন্দুধর্মের অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া হয় ধর্মমহাসভার সহায়তায় । তবে একটা কথা মিলটন জানে, দেশের অন্য অংশে দলিত বলতে যা বোঝায় কিংবা যের’ম ব্যবহারের কথা হেডলাইনে উঠে আসে – তা এখানে ফেস করতে হয়নি সেভাবে । তাছাড়া একসাথে অনেক ভোটের কথা ভেবে রাজনৈতিক দলগুলো ওদের চটায় না । এখন আবার সরকার আর বিরোধি দুভাগে ভাগ হয়ে গেছে ওদের গোষ্ঠী ।
বন্ধুদের দলে মিলটন সর্বদা স্ট্রাগেল বিষয়ক গল্প বলতেই বেশি অভ্যস্ত । কখনও সেজন্যে বিরক্তির কারণও হয়ে ওঠে । কাঁচা বয়সের ছেলে কোনওরকম রসালাপ না করে, সর্বদা সোশ্যাল রেভেলিউশান নিয়ে ভাবলে যা হয় আর কী ! এমনকি তার কবিতার যে পুস্তিকাটি বেরিয়েছিল এবারের বইমেলায় – তাতেও সেসব কথাই লেখা । বাঙালির ছেলে বরাবর প্রথম প্রেমিকাকে নিয়ে পদ্য লিখে যায়, তার বদলে এমনটা দেখতে কেউই অভ্যস্ত নয় বিশেষ । তবে আশপাশের মেয়েরা মিলটনকে দেখার ব্যাপারটায় একদম ফিদা । বেশ শক্তপোক্ত চেহারা, হাইট ছ’ফুটের কাছাকাছি... মুখে মানানসই দাড়ি, কালো ফ্রেমের চশমা এবং মুখেচোখে একটা চাপা ক্রোধ । মানে যেমনটা দেখলে মেয়েরা খানিকটা সমঝে চলে । আর এই বিপ্লবী অথচ রোম্যান্টিক... কালবেলার নায়কের লুকটা যাদবপুরে বেশ চলে। তবে মুশকিল হয়েছে একটা, ইতিহাস পড়তে পড়তে ... তার চরিত্রগুলো সর্বদা আওড়ালে যা হয় । মিলটন সবসময় ভাবে – মধ্যযুগে বৈষ্ণব আন্দোলনে তারা সামাজিকভাবে কিছুটা এগিয়ে ছিল... যদিও উনবিংশ শতাব্দীর রেনেসাঁয় তাদের মধ্যে তেমন কোনও প্রভাব পড়েনি । এই সময় কৃষকের ঘরে জন্মান হরিচাঁদ ঠাকুর । তিনি মতুয়া সমাজ তৈরি করেন । সেই বহমানতার আজকের প্রজন্ম মিলটন । কোনও গোষ্ঠীর নেতা তো আর এমনি এমনি হওয়া যায় না । গায়ের জোর বা মনের জোরের থেকেও বেশি দরকারি জিনিস ক্ষমতা – যাতে মিশে থাকে অলৌকিক কিছু রসদ । শোনা যায় ঠাকুর একবার উচ্চবর্ণের সাথে দাঙ্গার পরে মাঠে পড়ে থাকা লাশের ওপর মাটি ফেলে ঘাস গজিয়ে দিয়েছিলেন । পরের দিন পুলিশ এসে কারো কোনও চিহ্ন খুঁজে পায়নি, তার অনুগামীরা খুঁজে পেয়েছিল বিশ্বাস । যা তার প্রতি আনুগত্যকে প্রশ্নাতীত করেছিল। এসব ভাবনার মধ্যেই হঠাৎ নড়ে উঠল মিলটন । সৌম্য তার দিকেই তিন্নিকে সঙ্গে করে নিয়ে আসছে । সৌম্যর মুখে একটা মিচকে হাসি । যেন বলতে চাইছে, আর পালাবার পথ নেই । আর ভয়ের কী বা আছে, একটা মাস্টার্সের মেয়ে এসে তাকে কী এমন বলতে পারে ! সে দু’বছর আগেই ওই ক্লাসের পাঠ চুকিয়ে এসেছে । আর বইমেলার ঘটনাটা মিলটনের মনে দাগ কাটলেও তা তিন্নির মনে থাকার কথাও নয় । এসবের মধ্যেই সৌম্য এসে তার পাশে বসে পড়েছে, আর তিন্নি অনুমতির অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে বলে মনে হল মিলটনের । মিলটন তাকিয়ে দেখল – মেয়েটা একটা ঝলমলে সবুজ রঙের কুর্তি পরেছে । সেই রঙটা তার গায়ের মাজা রঙের সাথে মানিয়ে গেছে বেশ ।
ক্যান্টিনে পাশে নিজের পছন্দের জায়গাটায় বসে আপন মনে এসব ভাবনার মধ্যেই একটু নড়েচড়ে বসতে হল মিলটনকে । তার এই একটু উঁচুতে বসার জায়গাটার নাম সৌম্য দিয়েছে উচ্চাসন । যেন কোথাও একটা কাঁটা বিঁধে থাকার অস্বস্তি হল মিলটনের। সৌম্য তিন্নিকে সঙ্গে করে তার দিকেই আসছে । সৌম্যর মুখে একটা মিচকে হাসি । যেন বলতে চাইছে, আর পালাবার পথ নেই । তবে সৌম্য সেদিনের কথা তুলল না। বলল, তোর কবিতা পড়েছে তিন্নি । তাই ওকে নিয়ে এলাম কবির কাছে । ততক্ষণে তরুণ কবিটি সামলে উঠেছে । বেমক্কা লটারির টিকিট জিতলে যা হয় আর কী ! তবে এতে আশ্চর্য হওয়ার বিশেষ কারণ নেই । এখানকারই এক বন্ধু ছোটখাটো পাব্লিকেশান শুরু করেছে, সে মিলটনের বই ছেপে বিক্রি করেছে এই সার্কেলেই । কিছু ছেলেমেয়ে মিলটনকে গুরুত্ব দেয় – তা ও জানতো । ওর থেকে তিন্নির মতো মুখচেনা কেউ কেউ বইটা কিনেছে নিশ্চয় । তিন্নি অবশ্য ওকে সে শুধু শুভেচ্ছা জানাতে এসেছে – তা নয় । সে বলতে এসেছে, মিলটনের একরোখা ভাবটা তার পছন্দ । তবে এসব মুগ্ধতা সারাজীবনের কাহিনী নয়, দু’এক ঘণ্টার মামলা । আগুণ দেওয়া নেওয়া । কয়েকদিন পর তিন্নি মিলটনকে জিজ্ঞেস করেছিল, সে কি রিসার্চে থাকবে নাকি জবের কথা ভাবছে ! তিন্নি নিজে মাস্টার্সের পর অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসে যাবে । মোটামুটি উতরোতে পারলেই হল – তার বাবা রাইটার্সের সেক্রেটারি, বাকিটা বুঝে নেবে । মিলটনকে সে না মনে করালেও মিলটন জানে, সংরক্ষনের কারণে তার বেশ খানিকটা সুবিধে আছে । তবে সে জীবনটাকে অন্যরকম ভেবে রেখেছে । এমফিল তার না করলেও চলতো, তবে এই ইউনিভার্সিটির জলহাওয়া ছেড়ে যাওয়া যায়নি । মিলটন ভেবে রেখেছে, কলেজে চাকরির অ্যাড বেরোলে সেটায় চেষ্টা করবে । যদিও স্কুল কলেজে নিয়মিত রিক্যুটমেন্ট অনেকদিন ধরেই বন্ধ । তবু সের’ম কিছু পেলেই সুবিধা । তাতে নিজের জন্যে সময়টা থাকে । আর সে প্রশাসনের পদাধিকারী হয়ে সরকারী গাড়িতে চড়ে ক’টা লোকের কাছেই বা গ্রহণযোগ্য হবে ! তার বদলে নিজের কম্যুনিটির লোকের কাছে সে যদি ঠাকুর বলে মান্যতা পায়, ওইসব পেটমোটা প্রশাসনিক কর্তাকে কান ধরে ওঠবোস করানোর বিস্তর সুযোগ পাবে ।
পৃথিবীর অধিকাংশ লোক যা ভাবে তার উল্টো ঘটলেো বিধাতা পুরুষ জন্মের সময় কারো মাথায় জয়টিকা লাগিয়ে দিয়ে যায়, সে বিশ্বাস মানুষ ছাড়েনি এখনও । মিলটন বা তিন্নি বরপ্রাপ্ত তেমন মুষ্টিমেয় কিছু লোকের মধ্যে পড়ে এরপর তা আর বলে দেওয়ার দরকার নেই । দশক পেরিয়ে তাদের যখন দেখা হল, দুজনেই বেশ খানিকটা পথ এগিয়ে গেছে । জীবনে কিছু ভাঙা গড়া তো থাকেই, তবে তারা পথ থেকে বিচ্যুত হয়নি বিশেষ ।
একটা আশ্চর্য পরিস্থিতিতে তাদের আবার দেখা হল, শীতকালের এক বিকেলে । অনেক বছর আগের ঠিক সেই দিনের মতো – মিলটন বসে ছিল আর সামনে দাঁড়ানো এই অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক তিন্নি । তাকে মিনিস্ট্রি থেকে আগেই বলে দেওয়া হয়েছে অঞ্চলের এই ঠাকুরটিকে তুষ্ট করতে । নয়তো কখন কী ঘটে যায়, কিছু বলা যায় না । তিন্নি বাঁকা হাসি হেসে সম্মতি জানিয়েছিল । সে জানে এই দেবতা কীসে তুষ্ট । তবে মিলটনের মুখ চোখে রুক্ষতার ভাব আরও গাঢ় হয়েছে খানিকটা । চুল আর ট্রিম করা দাড়িতে রূপোলী রেখা । তবে তার শরীরের চাবুক ভাবটা যে এই এক যুগে বিশেষ কমেনি বুঝতে পারে তিন্নি । তার যেন হাঁফ ধরে যাচ্ছে । সময়ের অসহযোগিতা একেই বলে বোধহয় । লোকাল কলেজের চাকরিটা বজায় থাকলেও মিলটন এখন বাংলাদেশ লাগোয়া অঞ্চলটার মুকুটহীন রাজা । তার বংশবদ কাউন্সিলার, এমএলএ । সে অঞ্চলের বাইরে বিশেষ যায় না । গেলেও সবার অগোচরে । ওদের বাড়িতেই অধিকাংশ লোক ‘দরবারে এসেছি’ ভঙ্গি করে এসে দাঁড়ায় । মিলটন মোটের ওপর পুরো ব্যাপারটা বেশ শান্তিপূর্ণ ভাবে চালিয়ে আসছে । তার পরিবার দাম্পত্য বা ব্যক্তিগত কোনও দুর্বলতাকে সে রাখে পিছিয়ে । কেননা সে জানে, তার পথ সামান্য কিছু টাকা বা জমি জায়গা দখল করে ফুরোবে না । তার চাই প্রশ্নাতীত আনুগত্য । আর সেজন্যে চাই মানুষের চোখে অলৌকিক হওয়ার রসদ । মিলটনের কোনও বাসনা পূরন না করার কার্পন্য করেননি বিধাতা, তাই সুযোগ এসে গেল ক’মাসের মধ্যেই । ফাল্গুনের দিন ফুরিয়ে বাতাসে তখন উত্তাপ বেড়েছে । এখানে কয়েকদিন ধরে চলে মেলা । প্রশাসন থেকে বাড়তি গুরুত্ব অবশ্যই দেওয়া হয় কারণ দেশের বিভিন্ন রাজ্যের সাথে বাংলাদেশ নেপাল মায়ানমার থেকেও আসে মানুষ । কৃষ্ণ ত্রয়োদশীতে পূন্যস্নান করে উঠে এবার সবাই একেবারে তাজ্জব হয়ে গেল । চারদিকে ততক্ষণে ডঙ্কা বাজতে শুরু করেছে । লোকের ঢল নেমেছে মেলার মাঠে ।
ঠাকুরবাড়ির দু’তরফের সম্পর্ক ভেঙে গেছিল অনেকদিন আগেই । মিলটনের প্রভাবে অন্যরা প্রায় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে । তারা এ বছর কোথা থেকে কী ফরমান নিয়ে এসে মেলা বন্ধ করে দিতে চায় । কারণ মেলার মাঠ নিয়ে চলা মামলার নিষ্পত্তি হয়নি । বিষয়টা মিলটন আগেই জানতো, সেও মনে মনে এর’ম কিছুই চাইছিল । তাই তিন্নির মাধ্যমে পুলিশ ফোর্সকে ইনফর্ম করা ছিল । তবে সেসব পরের কথা । তাদের কিছু পরে আসতে বলা হয়েছিল । এই দু’ঘণ্টাতেই বাঁধে খণ্ডযুদ্ধ । মিলটনের নেতৃত্বে উল্টোদিকের লোক কচুকাটা হয় । সবার শেষে ফিল্মি কায়দায় পুলিশ আসে ততক্ষণে জলের নীচে তলিয়ে গেছে বিরোধীদের লাশ । আর রক্ত মেখে মিলটন তার দলবল নিয়ে চ্যানেলের ক্যামেরার সামনে বলছে, আর ঝগড়া কাজিয়া মামলার দরকার নেই... এই জমিটা মানুষকে মেলা করার জন্যে দিয়ে দেওয়া হবে ঠাকুরের নামে । মিলটনের দিকে তাকিয়ে চোখ বড় বড় করে তিন্নি দেখছিল – কীভাবে সাধারণ মানুষের থেকে মিলটন কয়েক ফুট উঁচুতে উঠে গেছে । সেটা অলৌকিক কিছু নয়, তাকে কাঁধে চড়িয়েছে বলিষ্ঠ খেটে খাওয়া মানুষের দল । ‘ঠাকুর’ কথাটার মধ্যে যে মেটাফোর –এতদিনে বুঝতে পারলো তিন্নি । আর এটাও বুঝলো, তাকে এবার ভুলে যাবে উচ্চাসনে বসা মিলটন । তিন্নির মনে হল – ইতিহাসটাকে ভালই ধরেছে মিলটন... যারা মেরেধরে ক্ষমতা দখল করে, তারাই গল্পের শেষে দেবতা সাজে। আর সেই ছবিটাই থেকে যায় মানুষের মনে ।
Comments
Post a Comment