Skip to main content

Featured Post

রবিবর্ণ | সমাজের বর্ণ | স্বরবর্ণ সাহিত্য পত্রিকা-২০২১

সমাজের বর্ণ স্বরবর্ণ সাহিত্য পত্রিকায় আপনাকে স্বাগত ~ Welcome to Sworobarna Literary Magazine |                         এই বছরের নতুন নিবেদন -- সমাজের বর্ণ | অণুগল্পে সমাজের নানান রং এর মেলা | রবিবর্ণ | স্বরবর্ণ সাহিত্য পত্রিকা - ২০২১     🙏 ধন্যবাদ ~ Thank You 🙏 মা দেবীকা মিস্ত্রী সঞ্জীবনী প্রথম যেদিন মিমিকে দেখেছিল, বাঁচিয়েছিল একটি বড়োসড়ো অ্যাক্সিডেন্ট হওয়ার হাত থেকে। কোলে তুলে নিয়েছিল ছোট্ট মিমিকে।সেদিন মিমিও সঞ্জীবনীর বুকে মাথা রেখে, বেঁহুশ হয়ে "মা" বলে ডেকেছিল। সঞ্জীবনীর মধ্যে জেগে উঠেছিল মা-এর একটি রূপ। সেই ঘটনার পর, বহুবার সঞ্জীবনী মিমির সাথে দেখা করার চেষ্টা করে। কিন্তু, তাকে মিমির কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। মিমিও অনেকবার সঞ্জীবনীর কাছে আসার ব‍্যর্থ চেষ্টা করেছিল। ঠিকই তো, সঞ্জীবনীকে ছোট্ট মিমির কাছে কেন আসতে দেবে এই সুস্থ সমাজ। সে যে, নপুংসক, হিজড়া, ছক্কা। কারোর কারোর চোখে ...

যাযাবরের সংসার (গল্প) - স্বপঞ্জয় চৌধুরী

যাযাবরের সংসার

স্বপঞ্জয় চৌধুরী


স্বরবর্ণ সাহিত্য পত্রিকা

খালের ওপরের নড়বড়ে সাঁকোখানা খুব সাবধানে পার হয় সাহারা। খালের দুধারে হালকা বেগুনি রঙের কলমি ফুলগুলো বাতাসে দুলে দুলে তার পারাপারের ঘটনাটাকে অবলোকন করছে। একটু দূরেই কয়েকটা ছেলেমেয়ে গর্ত খুড়ে কী একটা যেন খোঁজার চেষ্টা করছে যেন খুব মহামূল্যবান কিছু। সাহারা বুঝতে পারে তারা কী করতে যাচ্ছে। তার পূর্ব পুরুষের আদিম পেশা এটা। ছেলেরা গর্ত ছেড়ে কিছু সময়ের জন্য সাহারার দিকে তাকায় মুখে কিছু না বললেও তারা চোখের ভাষায় যেন সাহারারাই সাহায্য কামনা করছে। সাহারাও এগিয়ে গেল গর্তের দিকে। সর পোলাপান সর সর একজন জায়গা করে দেয় সাহারাকে। নদু মুন্সীর ছেলে বারেক সাবলটা বাড়িয়ে দেয় সাহারার দিকে। সাহারা কয়েকটা কোপ গর্তের মুখে দেয়ার সাথে সাথে পাক্কা আট হাত লম্বা একটা বিরল প্রজাতির গোখরো সাপ বেড়িয়ে আসে। সাহারার মুখে ভয়মিশ্রিত একটা শুভ্র হাসি দেখতে পাওয়া যায়। গেরস্তের বউ হওয়ার পর এই তৃতীয়বার সে সাপ ধরলো। গেলো বছর বাড়ির রান্নাঘর থেকে শাশুড়ি মায়ের দেখা একটা অজগরের ছানা ধরেছিল। তারপর তার কিছদিন বাদেই নদু মুন্সীর বাড়ি থেকে একটা দাঁড়াস সাপ ধরেছিল। সেই থেকে গায়ে সাপ ধরার কথা উঠলে বেদেকন্যা সাহারার ডাক পড়ে। কিন্তু সাহারার স্বামী ভজন আলী ব্যবসায়ী মানুষ। তিনি সাপ বিচ্ছু ধরা পছন্দ করেন না। যদিও বিয়ের আগে সে সুন্দরী সাহারাকে পাওয়ার জন্য সাপ পছন্দ করার নাটক করতো। কিন্তু মনে মনে সে সাপকে ভীষণ ভয় পেত। এই সাহারার মন জয় করতে তাকে কম বেগ পেতে হয়নি। তার উপর সমাজে বেদে সমাজকে নিগৃহিত করা হয় প্রতি পদে। কেবল মাত্র রুপ আর গুন থাকলেও অনেকেই সমাজে ভালো বংশের ছেলে কিংবা মেয়েকে বিয়ে করতে পারেনা। তাদের স্বগোত্রীয় লোকের ভিতরেই হয় বিবাহ আচার অনুষ্ঠান। ভজন আলী ভাঙারির ব্যবসা করে। তার একটা বড় ট্রলার আছে। তো একবার ইঞ্জিন খারাপ হওয়ায় মাঝনদীতে ট্রলার বন্দ হয়ে গিয়েছিল। সেই পথ দিয়েই যাচ্ছিল বেদেনি সাহারাদের নৌকা। সাহারার মা ফতুবিবি ভজন আলীকে নৌকায় তুলে নেয়। সাহারার দিকে চোখ পড়তেই ভজনের মাথার ভিতর কাল বৈশাখের ঝড় শুরু হয়। তার ঠোঁটের কোনের তিল, লতানো কোমরের ভাজে যেন সর্পিনীর সংগম খেলা করে। তার কন্ঠ রুদ্ধ হয়, হাত পা হিম হয়ে আসে। যেন সুযোগ থাকলে এই মুহূর্তেই বিয়ে করে ফেলে সে। সেই দিনের পর প্রায় সপ্তাহখানেক মিয়াবাড়ির ঘাটে নৌকা ভিড়ানো ছিল। প্রতিদিনই কোন না কোন অজুহাতে নৌকায় গিয়ে দেখা করে আসতো সাহারার সাথে। তো একদিন সাহারা তার মায়ের সাথে সাপের খেলা দেখিয়ে ফিরছিলেন। গাঁয়ের মোড়ল চাকলাদার সাহেবের নজর পড়ে সাহারার দিকে। সে তাদের পথ অবরুদ্ধ করে দাঁড়ায়। তা কই যাইতাছো সুন্দরী বাইদ্যানী। আমার লগে লও খুশি কইরা দিমুনে। সাহারা তেড়ে এসেছিল চাকলাদারের দিকে। খুশি করতে চাস সালা কুত্তা। আমার বাক্সে ভি বিষ, মুখে ভি বিষ, শরীরেও বিষ বাঁচতে পারবি না। মোড়ল সাঙ্গ পাঙ্গ পাঠিয়ে তার নৌকায় হামলা চালায়। তার বাক্সে রাখা গোখরো সাপ পিটিয়ে মেরে ফেলে। থানায় গিয়েও বিচার পায়নি। অসহায় এ বেদেনিকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয় ভজন আলী। শর্ত হচ্ছে সাপের খেলা বা সাপ বিচ্ছুর কারবার করা যাবে না। তো অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও দু'তিনবার সাপ ধরতে হলো তাকে।

আজকের ধৃত সাপটি সে তার মা ফতুবিবিকে উপহার দিবেন। এই গাঁ থেকে মাইল বিশেক দূরে তাদের দল ঘাটি পেতেছে। সেই খবর শুনেই মায়ের সাথে দেখা করতে যাচ্ছে। ভজন বহুবার তাকে বলেছে সংসারে চলে আসুন। কিন্তু যাযাবর মন সংসারে বাঁধা পড়বার নয়। তার উপর আবার মেয়ের জামাইর বাড়ি। সাহারা অটোরিকশায় করে রহমতগঞ্জ এর উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন। এই গাঁ থেকে ভাড়া চল্লিশ টাকা। তিনি একটি সিমেন্ট এর ব্যাগে সাপটিকে বেঁধে নিয়েছেন। অটোতে বসা এক মধ্য বয়স্ক লোক তার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছেন। পাশের লোকটা গা ঘেঁষে বসেছেন। যেন সম্ভব হলে গায়ের উপরেই চড়ে বসেন। আকাশে খানিকটা মেঘও করেছে। বৃষ্টি হতে পারে। রাস্তার দুদিকে বাশ ঝাড় তার মাঝখান দিয়ে চলছে অটো। সাহারার বুকের ভিতর ধক করে ওঠে। স্বামী ব্যবসার কাজে পাশের জেলায় ট্রলার নিয়ে গিয়েছেন। বিকেলে ফেরার কথা বৃষ্টির কারণে যদি দেরি হয় তাহলে অনেক বকা শুনতে হবে। মার খাওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল। তিনি এত যে সাপ ধরেছেন। তিনি সাপকে কখনো ভয় পাননি ভয় পেয়েছেন দেহলোভী পুরুষ জাতিকে। পাশের লোকটা ঘুমের ভান করে তার গায়ের উপর পড়ে যাচ্ছিল। সাহারা তার হাতের ব্যাগটা একটু নাড়া দেন। ব্যাগের ভিতর থেকে সাপটি ফোস ফোস করে আড়মোড়া দিয়ে ওঠেন। মধ্য বয়স্ক লোকটা বলেন- মা জননী ব্যাগের মধ্যে কী?
চাচাজি কোন ব্যাগ ডাইন হাতেরটা না বাম হাতেরটা? দুইডাই কও। বামহাতেরটায় আছে কচুর লতি, নারকোল, আম আর কয়েকটা কাপড়। আর ডাইন হাতেরটায় বেশিনা মাত্র আট হাইত্যা একটা গোখখুর সাপ। সাপের কথা শুনে ঘুমের ভান করা লোকটা লাফিয়ে উঠে। কই সাপ, কই সাপ আফা। মধ্য বয়স্ক লোকটাও ভয়ে কুকড়ে ওঠে। অটোর ড্রাইভারও গাড়ির গতি যেন কমিয়ে দেয়। পরের স্টপেজই পুরো অটো খালি হয়ে যায়। শুধু সাহারা বসে থাকে আর এক মাইল পরেই রহমতগঞ্জ। অটোচালক যেতে অস্বীকৃতি জানায়। সাহারা অটোচালককে বলে ব্যাগটা খুলমুনি ভাইজান। অটোচালক ভয়ে ভয়ে আবার চালু করে অটো। নদী ঘাটে অনেকগুলো নৌকা ভিড়ানো আছে। সাত নাম্বার নৌকাটা ফতুবিবির।

সে ফতুবিবিকে দেখেই কান্নায় জড়িয়ে ধরেন। দীর্ঘ দুই বছর পর মায়ের দেখা পেলেন। অনেক রোগা হয়ে গেছে মা। এবার তাকে বুঝিয়ে সুজিয়ে তার কাছে নিয়ে রাখবেন। ভজন ফিরলে তার সাথে কথা বলবেন এ বিষয়ে। আকাশে মেঘ গুড়ুম গুড়ুম করে ডাকছে। এদিকে ভজন আগেই কাজ ফিরে এসেছে। পার্টির কারগো পথেই পেয়ে গিয়েছিল। তাই মাঝ পথেই মাল খালাস করে টাকা নিয়ে দুপুরের মধ্যেই ফিরে এসেছেন। ফিরে এসেই সাহারাকে খুঁজছেন। তার মা ঢাকা গিয়েছে ছোট ছেলের বাসায়। বাড়িতে কেউ নেই।

এবাড়ি ও বাড়ি সবাইকে জিজ্ঞেস করছেন। ক্ষুধায় পেট চো চো করছে। তার উপর প্রতিবেশী মহিলারা নানা কুকথা কানে ঢালছেন। সবুরের মাতো বলেই বসলো- দেহো কোন নাগরের লগে দেহা করতে গেছে, নারকোল, কচুরলতি, আম এইগুলান দেখলাম ব্যাগের মধ্যে ভরতে। ভজন রেগে অগ্নীমূর্তি ধারণ করে আছেন। তার উপর ক্ষুধায় পেট চো চো করছে। আইজ আসুক মাগি ঘরে ওর লাউংগাগিরি বাইর করতাছি। ঘন্টাখানেক পেড়িয়ে যায়। সাহারার দেখা নেই। সবুরের মা ভাত নিয়ে আসে লও বাবা চাইরডা খাইয়া লও। অই ছেমরি কহন না কহন আহে ঠিক নাই।

অনেক বৃষ্টি হচ্ছে চারিদিকে প্রায় অন্ধকার। এই বৃষ্টির ভিতরেই সাহারা রওয়ানা দিয়েছে। একটা অটো দাড় করানো আছে প্যাসেঞ্জার নেই। তাকে অনেক কষ্টে তিনগুন ভাড়ায় রাজী করানো গেলো। অটো চলছে বৃষ্টি হচ্ছে সাথে ঝড়ো বাতাস। অটোকে যেন উড়িয়ে নিয়ে যাবে। রাস্তার দুদিকে বাঁশঝাড় আর আখের ক্ষেত। অবশেষে অটো মিয়াবাড়ির ঘাটের কাছে এসে ভিড়লো। রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে হয়ে আছে। অনেক কষ্টে আংগুল গেঁথে গেঁথে হেঁটে সাঁকোর কাছে আসে। নড়বড়ে সাঁকোটি ভেংগে পড়ে আছে ভজনের ভগ্ন হৃদয়ের মতো। ভাগ্যিস একটা ডিংগি ভিড়ানো ছিলো অর্ধডুবন্ত অবস্থায়। সেই ডিঙিতে খোঁচ দিয়ে দিয়ে এ যাত্রায় খাল পাড় হয়। বাড়িতে সে স্বামী ভজনকে দেখতে পায়। খানিকটা বুকের ভেতর অজানা ভয়ে ধক করে ওঠে। গামছা দিয়ে চুল মুছতে মুছতে বলে তুমি কখন এলে? ভজন রেগে হুংকার দিয়ে তোর লাংগের লগে দেহা করতে যাওয়ার ইট্টুপর সিলান মাগি। সাহারাও তেড়ে আসে মুখ সামলাইয়া কথা কইবা কইছি, নুংরা মানুষ।

কী আমি নুংরা মানুষ- এই কথা বলেই ভজন মারতে শুরু করে সাহারাকে। পাটখড়ি আর আখ দিয়ে প্রচুর মারে সাহারাকে। মারতে মারতে তাকে ঘরের বাইরে বের করে। বাইদ্যানী কুনহানকার। বাইরে তখনো বৃষ্টি পড়ছে। সাহারার বিধ্বস্ত শরীর পড়ে আছে কাদায় লুটিয়ে। তার সারা শরীরে সাপের মতো আঁকাবাঁকা রেখা অংকিত হয়েছে। অঝরে বৃষ্টি পড়ছে তাকে আবারো ডিঙি বেয়ে খাল পারহতে হবে। ফিরে যেতে হবে যাযাবরের সংসারে।

Comments

Popular posts from this blog

স্বরবর্ণ সাহিত্য পত্রিকা | বৈশাখ সংখ্যা | প্রথম সংখ্যা

কবিতা গল্প অণুগল্প স্বরবর্ণ সাহিত্য পত্রিকা | বৈশাখ সংখ্যা নিবেদনে :  স্বরবর্ণ sworobarna ~সম্পাদকীয়~ বিশ্ব জুড়ে চলছে মহামারি, করোনা ভাইরাস। এই সংকটময়, দুর্দিনে চারদিকে লকডাউনের একঘেয়ে কাটাতে আমাদের এই উদ্যোগ যাতে সাহিত্যানুরাগী ব্যাক্তিরা সাহিত্য থেকে বঞ্চিত না হন। স্বরবর্ণ হল একটি ফেসবুক পেজ, সাহিত্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, এবং সাহিত্য কে বাঙালির মননে বজায় রাখতে যার সৃষ্টি। অনেকটা পথ চলার পর এবার প্রকাশিত হল স্বরবর্ণ সাহিত্য পত্রিকা, বৈশাখ সংখ্যা। এই পত্রিকা একটি ওয়েব ম্যাগাজিন রূপে প্রকাশিত। পত্রিকাকে সমৃদ্ধ করতে যেসব লেখক, কবি দের সৃষ্টি গৃহিত হয়েছে তাদের প্রত্যেককে অসংখ্য ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন। বহু সাহিত্যিকের লেখা আমার কাছে এসেছে কিন্তু যেহেতু সর্বশ্রেষ্ঠ লেখাই নির্বাচিত হয়ে থাকে তাই সকলের লেখা এখানে প্রকাশ করা গেল না। যাদের লেখা মনোনিত হয়নি তাদের কাছে অনুরোধ আপনারা আপনাদের সাহিত্যচর্চা বজায় রাখুন এবং আরো লিখুন। সর্বমোট তিরিশ জনের লেখা স্বরবর্ণ পত্রিকার প্রথম সংখ্যায় তুলে ধরা গেল। পরবর্তীকলে আশা করি এর চেয়ে অধিক সং...

সাপ্তাহিক রবিবর্ণ | সূচনা

সাপ্তাহিক রবিবর্ণ --- সূচনা --- স্বরবর্ণ সাহিত্য পত্রিকা এই সপ্তাহের লেখক সূচী Click on the writer's name to read directly. তামস চক্রবর্তী মলয় পাল মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস অনিল কুমার দাঁ রবীন বসু বিভাসকান্তি মন্ডল সায়ন মন্ডল বিকাশ চন্দ রাজকুমার সরকার (অণুগল্প) পরাগ ভট্টাচার্য্য কবিতা মিথ্যে স্মৃতি তামস চক্রবর্তী মন ভেঙে গেলে জীবন খোঁজে ঢেউ কতটা ভালোবাসবো আজ । বাঁচার সাধনা কেবলই অর্থহীন নিরুদ্দেশ যাত্রা, পরবাসী মন । ভাবনায় পাক খায় কি করে হারাবো তাকে জীবনের ক্ষুদ্র পানসি ভেসে গেলে । হৃদয়ের দাগ মুছে যায় যাক, মাটির গভীরে গোপন আলোয় নিজেকেই ঋদ্ধ করে নেবো শূণ্যতায়। অদ্ভুত মৃত্যু নামুক নিঃশব্দ পায়ে উড়ে যাক মুঠো মুঠো ছাই, পরিশুদ্ধ জীবন ঘন হয়ে আসে পাহাড় চুড়ায়, তুষারের সুস্নাত ভালোবাসায় হীরকদ্যুতির মতো জ্বলে ওঠে সেই মুখ, ঘাসের পাতায়, অলেয়ায়। একদিন শেষ আসে মিথ্যে হয় সব লেনদেন , পাওয়া না পাওয়ার অক্ষয় শব্দ মালায় স্নান সেরে ভোর পাখি ,খুঁজে নেবে নিদ্রিত সকাল , পবিত্র গঙ্গা জলে শুদ্ধ হয় সাড়হীন দেহ। পূর্ণ হয় চক্রের পুণ্য প্রয়াস । কেন গাছ হতে চা...

সাপ্তাহিক রবিবর্ণ | স্বরবর্ণ সাহিত্য পত্রিকা

রবিবর্ণ | স্বরবর্ণ সাহিত্য পত্রিকা

অগ্নিবৃক্ষের আচ্ছাদনে (কবিতা) - সঞ্জয় চক্রবর্তী

অগ্নিবৃক্ষের আচ্ছাদনে সঞ্জয় চক্রবর্তী স্বরবর্ণ সাহিত্য পত্রিকা অস্তিত্বের থেকে বহুদূর অদম্য ইচ্ছের এক পাহাড়ে আমাকে বসিয়ে ছুটি নিয়েছিলে কোনো ক্ষীণকায়া মোহনার বাঁকে । এখনও মৃত্যুর কাছে মহা জীবনের উপলব্ধি পাই । আমি জানি, একমাত্র তুমিই পারো পৌরুষের সিংহগর্জন তুলে আনতে, সুপ্ত পরিকল্পনার পুরোনো পন্থা থেকে । সপ্তদ্বীপের আলো দাও, এই স্বর্গলোকে । অগ্নিবৃক্ষের আচ্ছাদনে যেভাবে বাস্পায়িত হই আজও । সেভাবেই শীতল ছায়ার মতো সুপর্ণ শৈশবের এই কিশলয়, পুণ্য কর্তব্যপরায়ণ পর্ণমোচীর দেহ । পিতৃ দিবসের কাকভোরে, অচিন সূর্যালোকে চিরহরিৎ সৌম্য সেই শরীরটা আঁকি যেই বালুকার বুকে, তার জীবন্ত বাহার দেখে বুঝি, বীজের অঙ্কুরিত পর্ব শুরু হবে, আবারও জমবে কুলুঙ্গিতে স্নেহ । বঁড়শিতে বিঁধেছে কচুরিপানায় লুকিয়ে থাকা প্রতীক্ষিত ইল, তবু আমি বলি, দুই অঙ্কুশ মেলে রক্তাক্ত মৎস্যবাসনায় ফিরে এসো পিতা, সাজিয়ে রেখেছি উপাচার, শারঙ্গভাঙা পণে অর্ঘ্যের তল্লাশিতে তুলে আনা সব শ্লীল ।

সতীন্দ্রনাথের গল্প (হাস্য রচনা) - সমাজ বসু

  সতীন্দ্রনাথের গল্প সমাজ বসু         গত চব্বিশ ঘণ্টায় সারা দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এক এ পৌঁছেচে। মহারাষ্ট্রের ধারভি অঞ্চলের উক্ত আক্রান্তকে কোয়ান্টামে রাখা হয়েছে।  চোখে চশমা,খয়েরি রঙের টাই পরা টিভির ঘোষকের দরাজ গলায় খবরটা শুনেই সতীন্দ্রনাথ নিজের একটা হাতের লোম ধরে টানতেই বেশ একটু ব্যথা অনুভব করলেন। তার মানে খবরটা সত্যি। একেবারে আইএসআই মার্কা মারা একশ ভাগ সত্যি।    ---- হ্যাগো, সেই কখন পাঁপড়গুলো দিয়ে গেছি, এখনো একটাও মুখে তোলনি? তাই বলি,এত চুপচাপ কেন? তোমার মুখে খাবার পড়লেই তো, খাওয়ার চেয়ে আওয়াজই বেশি হয়। তাই ছুটে এলাম। এদিকে পাঁপড়গুলো তো ভেজা কাক হয়ে তোমার দিকেই তাকিয়ে আছে।    --- আরে গিন্নি, সাতানব্বই দিনের মাথায় একটা দারুণ খবর শুনলাম।আজ যে কি আনন্দ হচ্ছে। একটা পাঁপড় ভেঙে আমার মুখে দাও দেখি।     --- যতসব আদিখ্যেতা। এই বলে সতীন্দ্রনাথের স্ত্রী,অরুণা দেবী ব্যাস্ত পায়ে আবার কিচেনেই সেঁদিয়ে গেলেন।     সতীন্দ্রনাথ ফের টিভির খবরে ঢুকে পড়লেন। টিভির ভল্যুমটা বাড়িয়ে দিয়ে তিনি পাঁপড়ের শব্দকে ব...

উচ্চাসন (গল্প) - বৈদূর্য্য সরকার।

উচ্চাসন বৈদূর্য্য সরকার স্বরবর্ণ সাহিত্য পত্রিকা তাড়াহুড়ো করে যেতে গিয়ে জলের পাউচে পা পড়ে তিন্নির গতি কিছুটা বেসামাল হলেও বিপত্তি হল মিলটনের । বেমক্কা জল ছিটকে এসে তার প্যান্টের গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ভিজিয়ে দিয়ে গেল । কিছু বলার আগেই অবশ্য তিন্নি ততক্ষণে দ্রুত সে জায়গা ছেড়ে যেমন এসেছিল তেমনভাবেই চলে গেছে । বইমেলার এই পেছন দিকটা নিরিবিলিতে দাঁড়িয়ে মিলটন এতক্ষণ বন্ধুদের সাথে দাঁড়িয়ে গুরুগম্ভীর বিষয়ে বিতর্ক করছিল । অল্পবয়সী ছেলেদের কাছে সিরিয়াসনেস মানে যা হয় আর কী, দেশ ও দশের কথা ভাবা ! মিলটনকে ‘No NRC’ লেখা একটা পেজ মার্কার দেওয়া থেকে তর্ক শুরু হয়েছে ।  আচমকা আসা জলের তোড়ে থমকে গেল ওরা । এই অদ্ভুত সমাপতনে সবাই যে খানিকটা অবাক হয়নি তা নয়, তবে যাবতীয় সিরিয়াসনেস ভুলে সবার মুখেই হাসি ফুটে উঠল । অবশ্যই মিলটন ছাড়া বাকীরা । ততক্ষণে রেগে সে সৌম্যকে বলতে শুরু করেছে, দেখেছিস তো তোর দলের এসব ফচকে মেয়েরা লোককে অপদস্থ ছাড়া কিছুই করতে শেখেনি । সৌম্য হাসি বজায় রেখে বলল, দল বলের কথা উঠছে কেন ! তোর তো ডিপার্টমেন্ট । যাদবপুরের ইতিহাস। মিলটন পাস করে এমফিল করছে । তবে জায়গাটাকে যেন সে আঁক...

মৃগয়া (কবিতা) - কবি: কুলাঙ্গার

স্বরবর্ণ সাহিত্য পত্রিকা মৃগয়া কুলাঙ্গার চাপা রাগ নিক্ষেপ         মৃগয়ার বাণ সংজ্ঞা করে চাপ কাহিনী নেই বড় বড় কথা নেই         অতিথির পথ চেয়ে বসে নেই সম্মুখে চেয়ে আছে         জীবনে যে বড় ভালবেসেছে ; সামনের গৃহ         অগ্নি দগ্ধ দেহ রক্ত দিয়েছে         জীবনের চলে যাওয়ার স্বপ্ন একা একা

অপ্রয়োজনীয় লাঙ্গলের ফলক (অণুগল্প) - অমিত কুমার জানা

অপ্রয়োজনীয় লাঙ্গলের ফলক অমিত কুমার জানা স্বরবর্ণ সাহিত্য পত্রিকা দীর্ঘ তিন বছর পর রতনবাবুর ছেলে অলকেশ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে আজ গ্রামের বাড়িতে ফিরে এসেছে। বাড়িতে একেবারে হই-হুল্লোড় পড়ে গেছে। বাবা, মা, ভাই, বোন সবাই তাকে নিয়ে খুব ব্যস্ত। মা বিভিন্ন প্রকার সুস্বাদু খাওয়ার রান্না করে ছেলেকে সস্নেহে খাওয়ালো। সন্ধ্যের দিকে মাটির দেওয়াল বেষ্টিত দুয়ারে বসে সবাই গল্প করছিল। যে যার অন্তরের চাপা কথা এতদিনে যেন প্রানখুলে প্রকাশ করছিল। অলকেশের মন প্রান কিন্তু নিমগ্ন ছিল তার অ্যান্ডড্রয়েড ফোনটায়। ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলিটি ফোনের স্ক্রীনের উপর ক্রমাগত উঠানামা করছিল। বাড়ির সদস্যদের কারোর প্রতি যেন তার ভ্রুক্ষেপ ছিল না। রতনবাব কিছুক্ষণ ইতস্তত করার পর গ্র্যাজুয়েট ছেলেকে বললেন, "এবার ফোনটা রাখ না। সারাক্ষন ওতেই ডুবে থেকে কি লাভ?"  অলকেশ তো ক্রোধে একেবারে ফেটে পড়ল। সে বললো, "তোমরা এসবের কি বুঝবে? গেঁয়ো মূর্খ কোথাকার"। রতনবাবুর তেমন কোন বিস্ময়ের বহিপ্রকাশ লক্ষ্য করা গেল না। এক কোণে পড়ে থাকা লাঙ্গলের ফলকটার দিকে তাঁর দষ্টিৃ নিক্ষিপ্ত হল। তিনি ভাবলেন সত্যিই তো আজকের দিনে ট্...