সমাজের বর্ণ স্বরবর্ণ সাহিত্য পত্রিকায় আপনাকে স্বাগত ~ Welcome to Sworobarna Literary Magazine | এই বছরের নতুন নিবেদন -- সমাজের বর্ণ | অণুগল্পে সমাজের নানান রং এর মেলা | রবিবর্ণ | স্বরবর্ণ সাহিত্য পত্রিকা - ২০২১ 🙏 ধন্যবাদ ~ Thank You 🙏 মা দেবীকা মিস্ত্রী সঞ্জীবনী প্রথম যেদিন মিমিকে দেখেছিল, বাঁচিয়েছিল একটি বড়োসড়ো অ্যাক্সিডেন্ট হওয়ার হাত থেকে। কোলে তুলে নিয়েছিল ছোট্ট মিমিকে।সেদিন মিমিও সঞ্জীবনীর বুকে মাথা রেখে, বেঁহুশ হয়ে "মা" বলে ডেকেছিল। সঞ্জীবনীর মধ্যে জেগে উঠেছিল মা-এর একটি রূপ। সেই ঘটনার পর, বহুবার সঞ্জীবনী মিমির সাথে দেখা করার চেষ্টা করে। কিন্তু, তাকে মিমির কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। মিমিও অনেকবার সঞ্জীবনীর কাছে আসার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিল। ঠিকই তো, সঞ্জীবনীকে ছোট্ট মিমির কাছে কেন আসতে দেবে এই সুস্থ সমাজ। সে যে, নপুংসক, হিজড়া, ছক্কা। কারোর কারোর চোখে ...
ভাষা বেঁচে থাকে না
প্রাক রবীন্দ্র আমল হইতে বঙ্কিম কিংবা তাহারো কিছু পরবর্তী পর্যন্ত্য সাধু ভাষায় সাহিত্যচর্চা করিবার চল প্রচলিত ছিল। সংস্কৃত শব্দ, ভাষা বাংলা, হিন্দীকে নানান দিক হইতে সুযোগ সুবিধা প্রদান করিয়া আসিয়াছে। তাহা না হইলে আজও বাংলায় সাহিত্যচর্চা সম্ভবপর হইত না। তাহার পর হইতে সত্যজিৎ, ব্যোমকেশ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এর মতন লেখকদের বিরাজকালে ধীরে ধীরে সাধু ভাষায় ভাটা পড়িতে পড়িতে উঁচু বাঁধ গড়িয়া গেল এবং মোহনা হইতে সাধু-ভাষার সমুদ্রের স্রোত চলিত-ভাষার নদীতে আর ঢুকিতে পারিল না। কিছু লেখক যদি বা চেষ্টা করিয়াছেন, তাহাদের মান দেওয়া হয় নাই কিংবা অপ্রকাশিতই রহিয়া গিয়াছে।
ভাষার ভাঙনের ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকাই থাকে পাঠকদের। উহারা যদি ভালোবাসেন তবেই সেই ভাষা সাহিত্যিক গণ প্রয়োগ করিবেন নচেত প্রয়োগ করিলে তাহা বিফলেই যাইবে।
বর্তমান যুগে যখন হাতে কিছু চৌকো যন্ত্র, আর আন্তর্জাল ব্যাবস্থাপনার আবিষ্কার হইয়া গিয়াছে তখন পাঠকগণ কেনই বা দাঁতে দাঁত চাপিয়া কঠিন কঠিন শব্দ গুলিকে নিজ ওষ্ঠে জড়াইতে যাবেন।
একবিংশ শতাব্দীতে আসিয়া সাধু ভাষা আর যে রহে না!
কিছু কিছু নূতন প্রযুক্তির উদ্ভব হইয়াছে। সেখানে সমগ্র বিশ্বের তথ্য যোগান থাকে। সেখানেও বাংলার সাধু ভাষা স্থান পায় নাই। ভাবিলে যাহা অবাক লাগে তা হইল যে সেখানে সংস্কৃত ভাষা কেই স্থান দেওয়া হয় নাই।
পাশ্চাত্য শিক্ষাকে রবি ঠাকুর অগ্রাহ্য করিয়াছিলেন, তুচ্ছ বলিয়াছিলেন। পাশ্চাত্য সভ্যতাকে বাঙালির জীবনে গাঁথতে বারণ করিয়াছিলেন। বর্তমানে আজ আমরা সেই সকল দেশ শহিদের কথা ভুলিয়া গিয়া সমগ্র পাশ্চাত্য প্রযুক্তি, ঋতি, নীতি কেই আপন করিয়া নিয়াছি। এরই সহিত আমরা বাঙালিরা ভুলিয়াছি বাংলা, ইংরেজীতে পারদর্শী হইয়াছি।
জন্ম তিথিতে সে আমলে গোবিন্দভোগ চালের পায়েস রান্না করা হইত। বলিতে গেলে ইহাই ছিল আমাদের স্বীকৃত ঋতি। আজ লোকেরা ইংরেজী কেক নামক খাদ্যবস্তু লইয়া এই পূণ্যতিথি পালন করিয়া থাকে। অফিস-কাছাড়িতে থাকা মাতৃরূপ তাহার কোমল হস্তে সন্তানের জন্য পায়েস রাধিতে পারেন না। তাহাদের কাছে সময়ের এতটাই দাম বৃদ্ধি পাহিয়াছে যে তাহারা সন্তানকে একদন্ড কৃত্রিমতা থেকে বিরত রাখিতে পারেন না।
ইংরেজ ঋতি কে আমরা এতটাই প্রাধান্য দিয়া ফেলিয়াছি যে বাংলা কেহ বলিলে তাহাকে সর্বনিকৃষ্ট তম বলিয়া মনে হয়। আজ যদি সবকিছুর তালিকা করিতে বসা হয় তবে তা হাজার পৃষ্ঠার মোটা খাতাতেও ধরিবে না। বরং আমাদেরকে কষ্ট করিয়া সেসকল স্মৃতি গুলিকে মস্তিস্কে আনিয়া চোখের জল ফেলিতে হইবে।
সময় যখন প্রবাহিত হইতেছে তখন জনসাধারনের মুখে কেবল একটি মাত্র কথা-" সময়ের সাথে চলতে শেখো।"
তবুও আজ সাধু ভাষায় লিখিতে বসিলাম। জানা নাই আর কোনো প্রান্তে কেহ সাধু ভাষায় লেখালেখি করিতেছেন কিনা। তবুও এর মধ্যে যে ভাব, যে গভীরতা আছে তাহা কেহ অস্বীকার করিতে পারিবে না।
নতুন প্রজন্মকে দেখিতে পাই তাহারা নানান মাধ্যম বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে এবং নানান ভাষা রপ্ত করে। কিন্তু অ, আ, ক, খ কাহো কে বলিতে শুনি না। বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয়ের দাম বুঝি শূণ্য। তা হইলেও তো তাহার কিছু দাম রহিল কিন্তু আজকের জগতে ইহাও যেন আর থাকে না।
ক্রমে ক্রমে মোরা এই পৃথিবীর মাটি ছাড়িয়া যাব। তখন আমাদের সন্তান-সন্ততি রা থাকিবে। তাহার পর আরও কিছু হইবে। তখন দেখা যাইবে বাংলা উঠিয়া গিয়াছে। তাহার বদলে অন্য জাতিরা ভারত দখল করিয়াছে। তাহাদের সংস্কৃতিই তখন সর্বত্র। আমরা কোথায় তখন? শেষে একটিই ধ্রুবসত্য আমাদেরকে মানিয়া নিতেই হইবে - "ভাষা বেঁচে থাকে না।"
Comments
Post a Comment