সমাজের বর্ণ স্বরবর্ণ সাহিত্য পত্রিকায় আপনাকে স্বাগত ~ Welcome to Sworobarna Literary Magazine | এই বছরের নতুন নিবেদন -- সমাজের বর্ণ | অণুগল্পে সমাজের নানান রং এর মেলা | রবিবর্ণ | স্বরবর্ণ সাহিত্য পত্রিকা - ২০২১ 🙏 ধন্যবাদ ~ Thank You 🙏 মা দেবীকা মিস্ত্রী সঞ্জীবনী প্রথম যেদিন মিমিকে দেখেছিল, বাঁচিয়েছিল একটি বড়োসড়ো অ্যাক্সিডেন্ট হওয়ার হাত থেকে। কোলে তুলে নিয়েছিল ছোট্ট মিমিকে।সেদিন মিমিও সঞ্জীবনীর বুকে মাথা রেখে, বেঁহুশ হয়ে "মা" বলে ডেকেছিল। সঞ্জীবনীর মধ্যে জেগে উঠেছিল মা-এর একটি রূপ। সেই ঘটনার পর, বহুবার সঞ্জীবনী মিমির সাথে দেখা করার চেষ্টা করে। কিন্তু, তাকে মিমির কাছে যেতে দেওয়া হয়নি। মিমিও অনেকবার সঞ্জীবনীর কাছে আসার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিল। ঠিকই তো, সঞ্জীবনীকে ছোট্ট মিমির কাছে কেন আসতে দেবে এই সুস্থ সমাজ। সে যে, নপুংসক, হিজড়া, ছক্কা। কারোর কারোর চোখে ...
এক কিলো মানুষ
অনিরুদ্ধ ঘোষ
আজ পয়ষট্টি দিন হল কুলীণ পাড়ায় কোনো মানুষ নেই। পরশু সকালে ছত্রিশ হাজার টাকার মানুষ বিক্রি হয়েছে। আমাকে পবিত্রর বাবা বলে গেলেন না কি লেখক দের দাম কমে গেছে। তাই বেশি করে বিক্রি হচ্ছে। বললেন যে গতমাসে এক ব্যাক্তি বিয়াল্লিশশ টাকার ছয় কেজি আর্টিস্ট মানুষের মাংশ কিনে নিয়ে গেছে।
ওদিকে এখন সকাল বেলায় চাঁদ ওঠে। আর রাতে খুব ছোটো একটা সূর্য দেখা যায় তবে ওর আলো আর নেই।
শুনছি নাকি এরপর অফিস মালিক গুলো কাঁটা হবে। ওদের দাম সরকার ঠিক করে রেখেছে ছয়শ টাকা করে কেজি।
আসল ঘটনাটা হল বিগত দুই বছর আগে কে যেন একটা আমাদের পৃথিবীতে এলো ঠিক মানুষের মতন দেখতে। কোনো অমিল নেই। কেবল চেহারাটায় যা অমিল। উচ্চতা প্রায় পচিশ ফুট আর প্রস্থ বলতে গেলে তিন ফুটের কাছাকাছি। ওরা এক মিটার কে এক সেন্টিমিটার ধরে। এসে বলল যে তিনি এবার সবার ওপর নিয়ন্ত্রন করবেন। মানে বলতে গেলে তিনিই নতুন ঈশ্বর তিনিই সরকার। না! মানুষদের ঈশ্বর নয় তিনি বানুষ দের ঈশ্বর। আরো বললেন যে তিনি মানুষের মাংশ রক্ত শুদ্ধ খান। আমরা যেমনটা পাঠা বলি দি কালি মাতার আরাধনায় ঠিক তেমন। এরপর ধীরে ধীরে একের পর এক বান ছুড়তে ছুড়তে চলে এলো বানুষ প্রজাতি। এদের নাম বানুষ কারণ ওই বান মেরে এরা বাড়ি থেকে বেরোয়।
দিন যেতে থাকল। তারপর মানুষের বাড়ি গুলো সব ভেঙ্গে যেতে শুরু করল। আর বানুষের বাড়ি গুলো একে একে বেড়ে উঠতে থাকল। তারপর আমাদের কে খাঁচায় পুরে মাঠে ঘাটে ফেলে রেখে দিতে আরম্ভ করল। এখন আমাদের খুব একটা অসুবিধা হচ্ছে না। কারণ আমাদের মধ্যে মাঝে মধ্যেই পুরোনো স্মৃতির গল্প জুড়ে বসে।
কিন্তু এখন একটা জিনিস দেখলে খুব খারাপ লাগে। তা হল বানুষদের বাড়িতে বাঘ , সিংহ সকলেই যাতায়াত করে। অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রন- আমন্ত্রন চলতে থাকে। শুনেছি বানুষ সরকারের ছেলে জঙ্গলে হরিণের সাথে থাকে। অথচ আমরা যেতে পারি না। মনে মনে ভাবি আমাদের তো ডাকতে পারত।
রাস্তা এখন সব সময় চকচক করে। আমাদের সময়ের হাজার-দু হাজার টাকার নোট দিয়ে আর পিচ দিয়ে রাস্তা তৈরী হচ্ছে। তাই আলো পড়লে উজ্জ্বল লাগে।
বানুষ সরকার আসার পর আমাদের শহর পরিবর্তন হয়ে গেছে। মশারা এখন আমাদের কাছে আসে না। কিছু দিন আগে ইদুর টা আমাকে বলল পরের বছর আমার এক কেজি মাংস কিনবে। ভাল্লুক আজ বলে গেল ভালো করে খাওয়া দাওয়া করতে। স্বাস্থ্য না বানালে না কি আমাকে কেউ কিনতে চাইবে না। মনে মনে বেশ ভয় হয় যদি না কেনে!
যাই হোক কাজের কথায় আসি। যে কারনে এটা লিখছি। এখন না লিখলে কাল এমন হতে পারে আমাকে কেউ ভালো লেগে কিনে নিল তখন আর বলতে পারব না। আমাকে কিনে নিলে অন্তত আমার সন্তান লেখাগুলো দেখাতে পারবে।
হয়েছে কি পরিস্থিতিটা এখন খুব ভালে নয়। খাঁচা থেকে একটুও বেরোনো যাচ্ছে না। গত তিনমাস ধরে বানুষ সরকারের খুব কাছের লোক দমস এর বাড়িতে এক কিলো মতন মানুষ রাখা ছিল। বলে রাখি, এরা একশ কেজিকে এক কেজি বলে। যাই হোক দমস এর বাড়িতে কাজের লোক সকাল সকাল রান্না করতে যাবে যে দমস সরকারি কাজে বেরোবে এমন সময় দেখে যে মানুষ গুলো নেই মানে কোনো ভাবে পালিয়েছে। হয়ত দমসের মেয়ে খেলা করতে করতে খাঁচা খুলে দিয়েছিল সেই ফাঁকে।
তখন কাজের লোক দমস কে কথাটা বলতে বাধ্য হল। কথাটা শোনামাত্রেই দমস রেগে গিয়ে বানুষ সরকারের কাছে ব্যাপরটা নালিশ করল বলল- "আপনার রাজত্বে মানুষ কি করে পালাতে পারে?" কথাটা বানুষ সরকারের ও ভালো লাগল না। দমস তাকে অপমান করেছেন। তিনি তখন ঠিক করলেন যে মানুষ এখন খাঁচা থেকে বেরোলেই বিনা পয়সায় সেই মানুষটা দমস এর হয়ে যাবে। এবং দমস যত চাইবে মানুষ নিয়ে যেতে পারবে।
সুতরাং বুঝতেই পারছ যে আমাদের এখন কঠিন সময়। একটি পয়সাও যদি কেউ না দেয় তাহলে আমাদের সন্তানরা কিভাবে বাঁচবে?
আমাদের পাঁচশ বিঘা খাঁচার মালিক ভোঁসা। ভোসা মানুষ বিক্রি করে যে লাভ পায় তা দিয়ে মানুষের বাচ্চা গুলো খেয়ে পড়ে বাঁচে। ভোঁসা কে যদি টাকা না দেওয়া হয় তাহলে কি করে চলবে?
তাই বলছি যারা এখনও খাঁচার মধ্যে থেকে এই খবর জানো না তাদেরকে সাবধান করে দেওয়ার জন্যই লিখলাম।
বেশ তা হলে ভালো থেকো। বললাম না কখন আমাকে দর করবে আর কখন আমি বিক্রি হয়ে যাব। এটা লেখার কিছুক্ষণ পরই একজন বানুষ এসে বলল ভালো দেখে লেখক দিতে। ভোসা বলল -"এইটা নাও।" ব্যাস আমাকে বিক্রি করে দিল। কাল সকালে বলল নিয়ে যাবে। এখন আপাতত দাম দিয়ে গেছে একশ টাকা। লেখক তো! তাই দাম কম।
Comments
Post a Comment